করোনায় আক্রান্ত দুই শিশুর গল্প

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২০

এক মা তার দুই শিশু সন্তান কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ায়, এ রোগের উপসর্গ নিয়ে অভিভাবকদের সতর্ক হতে বলেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার এবিসি পোর্টালকে বেটিনা রওলি জানান, তার দুই সন্তান শার্লট (৫) এবং ফ্রেডরিকের (৩) মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে তীব্র জ্বর এবং শুষ্ক কাশি দেখা দিয়েছিল।

পরিবারটির বসবাস জার্মারি ফুসনে। অন্যান্য দিনের মতোই বাড়ির বাগানে শিশু দুটি স্বাভাবিকভাবেই খেলাধুলা করেছে, সন্ধ্যায় উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগ পর্যন্ত। দুই ঘন্টার মধ্যে দুজনেরই শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়ায়ে রূপ নেয়। হঠাৎ তীব্র জ্বর দেখে করোনার উপসর্গ আশঙ্কা করলেও, আদতে তা ‘না’ ভেবেছিলেন বেটিনা।

কিন্তু ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদের শুষ্ক কাশির উপসর্গ দেখা দেওয়ায় পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উভয় সন্তানের টেস্টের ফলাফল- ফ্লু’র জন্য নেগেটিভ এবং করোনার জন্য পজিটিভ আসে।

বেটিনা বলেন, ‘সেদিন যখন তাদের টেস্ট পজেটিভ এসেছিল, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকেছিল এবং আমি বলেছিলাম, ‘দেখুন, আমি কী করব জানি না। আমি তাদের জ্বরের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তাদের পানি পানের পরিমাণ ক্রমেই কমতে শুরু করেছে।’

তাকে সন্তানদের হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল এবং হাসপাতালের একটি রুমে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল।

তিনি জানান, এ সময়ে খাবারের প্রতি শার্লট তীব্র অনীহা দেখা দিয়েছিল এবং উভয় সন্তানের শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ খুব কম ছিল- যার অর্থ হলো শরীরে প্রতিরোধ ব্যবস্থা মোটেও অবশিষ্ট ছিল না। তিনি বলেন, তারা ভাগ্যবান যে ফুসফুসে সংক্রমণ করেনি।

হাসপাতালের রুমের চিকিৎসা সরঞ্জামগুলোর ব্যবহার তাকে নার্সরা শিখিয়েছিল, কারণ কেবল খুব জরুরি অবস্থার সময়ই নার্সরা আসতে চেয়েছিল।

বেটিনা বলেন, ‘তারা সবসময় বলে আসছে বাচ্চারা অসুস্থ হয় না। কিন্তু আমার দুই সন্তানকেই হাসপাতালে নিতে হয়েছিল। আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না যে, ওই সময়টা কতটা নিঃসঙ্গতার।’

মেলবোর্নের মারডোক চিলড্রেন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইনফেকশন অ্যান্ড ইমিউনিটি রিসার্চ টিমের প্রধান অ্যান্ড্রু স্টিয়ার বলেন, ‘এই রোগটি শিশুদের মধ্যে হালকা বলে মনে হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আরো অনেক শিশু আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে।’

শার্লোট এবং ফ্রেডেরিক-উভয়েই ইতিমধ্যে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে। বেটিনা এবং তার স্বামীর ধারণা নেই যে, তাদের সন্তানেরা দোকান থেকে নাকি অন্য কোথাও থেকে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছিল।

করোনার লক্ষণগুলো সম্পর্কে অভিভাবকদের সতর্ক করতে বেটিনা এই গল্পটি শেয়ার করেছেন। ভাইরাসটির উপসর্গ প্রথম দিকেই সকলে গুরুত্ব দেবে এই প্রত্যাশায়।