,
সংবাদ শিরোনাম :
» « পীরগঞ্জে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের ভাবীর ইন্তেকাল» « পীরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত» « পীরগঞ্জে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালী» « বালিয়াডাঙ্গীর পাড়িয়া ইউনিয়নে জিল্লুর চেয়ারম্যান নির্বাচিত» « পীরগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রদান কাজে নিয়োজিত কর্মীকে গন পিটুনি» « পীরগঞ্জে টিএন্ডটি রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু» « পীরগঞ্জে পঞ্চগড় এক্্রপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতি চায় এলাকাবাসী» « জাতীয় নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপে বাফুফের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ» « কাউকে গোনায় ধরেন না সানি লিওন» « গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথ কমালো বিটিআরসি

বন্ধ হোক অ্যাম্বুলেন্স দৌরাত্ম্য

dmc1476588004অ্যাম্বুলেন্সটির নাম ‘মানব সেবা’। এই মানব সেবা কেড়ে নিল চার চারটি প্রাণ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফটকে। শনিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটির চাপায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও এক শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চারজন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে লাশ হয়ে যাওয়ার এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

দুর্ঘটনার সময় অ্যাম্বুলেন্সটি চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী সদ্য কৈশোর পেরোনো এক ছেলে। তখন জরুরি বিভাগের মূল ফটকের সামনে ভিড় ছিল। মূল প্রবেশপথের পুরোটাই দখল করে ছিল রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুতগতিতে ভেতরে ঢুকতে থাকে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফটকে ধাক্কা লেগে লোকজনকে চাপা দেয়। পুলিশ অ্যাম্বুলেন্সটি আটক ও চালকের সহকারী ছেলেটিকে গ্রেপ্তার করেছে। এখানে অ্যাম্বুলেন্সের মূল চালকও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন, তিনি তার অদক্ষ সহকারীর হাতে গাড়ির চাবি দিয়েছেন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বলা হচ্ছে, অ্যাম্বুলেন্সটির মালিকদের একজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়। অভিযোগ আছে, যারা এখানে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, রোগীরা তাদের কাছে জিম্মি। এটি একটি চক্র এবং দীর্ঘদিন ধরেই তারা রোগীদের জিম্মি করে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনেরা বহুবার প্রশ্ন তুলেছেন কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

এ অভিযোগ কেবল ঢামেক হাসপাতালের ক্ষেত্রেই নয়। সারা দেশে সব সরকারি হাসপাতালের সামনে দেখা যায় অপেক্ষমাণ অ্যাম্বুলেন্স। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন হাসপাতালে কর্মরত ব্যক্তিরাই। অ্যাম্বুলেন্স সেবার নামে তারা রোগীদের জিম্মি করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। রোগী অথবা লাশ বহনে তারা অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে থাকেন- এ অভিযোগ নতুন নয়। রোগী ও লাশের স্বজনদের সঙ্গে তাদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করে কোনো ফল পাওয়া যায় না।

এই দুর্ঘটনার ভেতর দিয়ে আবারও ফুটে উঠেছে দেশের হাসপাতালগুলোতে নাজুক ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির চিত্র। পুরো চিকিৎসা খাতটাই মূলত সেবা খাত। আর এই সেবা খাতের অপরিহার্য অংশ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। কিন্তু এখানে সেবার বদলে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে করা হচ্ছে ব্যবসা। চক্র সৃষ্টি করে জিম্মি করা হচ্ছে মানুষকে। কাঙ্ক্ষিত সেবা দূরের কথা, মানুষ এদের কাছে অর্থ ও সম্মান এমনকি প্রাণ পর্যন্ত হারাচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালের ফটকে এমন করুণ চিত্র একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে, আমরা এ আশা করি।

print

(Visited 132 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ