,
সংবাদ শিরোনাম :

পীরগঞ্জে গম ক্রয়ে চাষী নির্বাচনে লটারীর দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে —-আতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারী ভাবে খাদ্যগুদামে গম ক্রয়ে চাষী নির্বাচনে লটারীর দুর্নীতির তদন্ত করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাও জেলার অথিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) নুর কুতুবুল আলম। শনিবার দুপুরে পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে দ্যুর্নীতির কারণে বাতিল হওয়া সেই লটারীর পুনরায় লটারী অনুষ্ঠানের জন্য অয়োজিত সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ঘোষনা দেন। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া সহ সরকারী কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, কৃষক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এডিসি বলেন, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি খাদ্য শস্য কিনতে সরকারের যে মহতি উদ্যোগ তা বাস্তবায়নে যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দ্যূনীতির আশ্রয় নিবেন তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পীরগঞ্জে গম ক্রয়ে চাষী নির্বাচনে লটারীতে যে দ্যুনীতি হয়েছে এর সাথে জড়িতরা ছাড় পাবেন না।

উল্লেখ্য, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারী ভাবে গম কেনার লক্ষে পীরগঞ্জে কৃষক নির্বাচনে গেল ১৬ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে লটারী করা হয়। উপজেলার ৫১ হাজার কৃষকের মধ্যে ২১ হাজার গমচারীকে এ লটারীরর আওতায় আনা হয়। এদের মধ্য থেকে ১৬১৮ জন কৃষকের সিরিয়াল নম্বর লটারীরর মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। প্রত্যেক সিরিয়াল নম্বরের বিপরীতে ১ টন করে গম কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর তালিকা লটারীর চুড়ান্ত তালিকা করার জন্য কৃষি কর্মকর্তা এমএম গোলাম সারওয়ার, পীরগঞ্জ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মাহবুব হাসান ও লোহাগাড়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শাহিন আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা রাতারাতি সিরিয়াল নাম্বার ও কৃষকের নাম বদলিয়ে সিন্ডিকেটের পছন্দের লোকজনদের নামের তালিকা তৈরী করে। যে তালিকায় একই পরিবারের ৭/৮ জনের এবং একই পাড়ার ৩০/৩৫ জন কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ অবস্থায় গেল ২০ মে বিকালে খাদ্য বিভাগ ঐ তালিকা অনুযায়ী গম ক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করে। এ সময় খাদ্য গুদাম চত্বরে কৃষকরা ঐ বির্তকিত তালিকা দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে গম কেনা বন্ধ করা সহ লটারী বাতিল করার দাবী জানান। এরপরও ২১ মে ভোরে পীরগঞ্জ খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বির্তকিত লটারীর তালিকায় নাম থাকা পৌর শহরের জগথা গ্রামে একটি প্রভাবশালী পরিবারের ৭ জন সহ বেশ কিছু কৃষকের নামে প্রায় ৩’শ বস্তা গম গুদামে ঢুকান। এতে বিষয়টি আরো চাউড় হতে থাকে। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারাও এর প্রতিবাদ জানান। অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ক্রয় কমিটির সভাপতি এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ তালিকা নিয়ে ঘাটা ঘাটি করেন। এর পর সিরিয়াল নাম্বার ও কৃষকের নামের রদ বদলের বিষয়টি ধরা পড়লে গম কেনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি এবং ঐ লটারী বাতিল ঘোষনা করেন।

print
(Visited 50 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ